উঠলো বাই তো পাহাড়ে যাই

First Day

- চল ঘুরে আসি
- কোথায়?
- NJP তে গিয়ে ঠিক করব
- চল তবে হোলির ছুটিটা কাটিয়ে আসি।
এই কথোপকথনে শুরু হলো কোথায় যাবো কিসে যাবো কিছু ঠিক নেই, আছে শুধু ঘোড়ার নেশা। ততকাল টিকিটের সময় পেরিয়ে গিয়েছে 7মার্চ বিকেলে 8তারিখের সরায়ঘাট এক্সপ্রেস ওয়েটিং টিকিট কেটে মালদা থেকে যাত্রা শুরু করবো তার আগে অবশ্য আমাকে বিহারের ফরবেশগঞ্জ থেকে মালদা আসতে হবে।
কলেজ অর্ধদিবস করে বেরিয়ে পরব বলে ঠিক করেছি এমন সময় শুরু হলো মুষল ধারায় বৃষ্টি। প্রার্থনা করছি বৃষ্টি কমার। ঈশ্বর প্রার্থনা শুনলেন হতে 30 মিনিট সময় দিলেন এঁকছুটে স্টেশন এবং মালদার উদ্দেশে রওনা সন্ধ্যে 8 টাই মালদা পৌঁছে অপেক্ষা সরায়ঘাঁট এক্সপ্রেস এর জন্য এর মধ্যে কপাল ভালো ওয়েটিং টিকিট কনফার্ম হয়েগেছে। তিনজন এক সাথে হলাম মালদা তে যথা সময়ে ট্রেন এলো এবং একটু চোখ বুঝতেই 1টা 40এ njp পৌঁছে গেলাম। ওতো রাতে একটু এদিক ওদিক করে সময় কাটিয়ে চা পান করে 4তে নাগাদ শেয়ার অটো তে শিলিগুড়ি জনশনে এলাম তখন প্রায় সাড়ে চারটা হবে। বাসের খোজ নিয়ে জানতে পারলাম 5:20তে কলিংপং এর বাস ছাড়বে। সিদ্ধান্ত হল কালিম্পং থেকে লাভা যাবো এবং সেখান থেকে রিষপ এর গ্রাম দেখে ফিরে আসবো।
বাস এর জানালা ধরে বসে পরলাম ( শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং এর ভাড়া 110 টাকা nbstc বাস এ)। তিস্তার পাস দিয়ে সারি সারি সবুজের আবরণ পেরিয়ে বাস চলতে থাকলো 8টা নাগাদ কালিম্পং পৌঁছে লাভা যাবার গাড়ী খোঁজা শুরু করলাম। না কালিম্পং শেয়ার গাড়ী সকালে পাওয়া টা সমস্যা। গুগল দেখলাম লাভা আরীঘার হয়ে যাই এবং পেডং এর বাস আরিঘার হয়ে যাই তাই ওই বাস এই উঠে পরলাম সাড়ে 8 টাই বাস ছাড়লো 20টাকা ভাড়া দিয়ে 9টা দশ নাগাদ আরীঘর নেমে লাভা 600 টাকা দিয়ে লাভা যাবার গাড়ী রিজার্ভ করে সাড়ে 10 টা নাগাদ লাভা বাজার পৌঁছলাম। লাভা তে নেমে শীতল অভ্যর্থনা জানালো পাহাড়ী গ্রাম। দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা উকি দিচ্ছে। কাঞ্চন দাকে সামনে রেখে আশ্রয়স্থল খুজঁতে শুরু করলাম।
লাভা ভিউ পয়েন্ট নামের একটি আশ্রয়স্থলে দরদাম করে একটু ফ্রেশ হয়ে প্রাতরাশ সেরে পায়ে হেঁটে গ্রামের আসে পাশের পরিবেশ উপভোগ করতে বেরিয়ে পরলাম। সারি সারি পাইন গাছের বনের ভেতর দিয়ে চলতে চলতে একটা অদ্ভুত ভালো লাগা অনুভূতি করলাম। পাশেই একটি মনেস্ট্রি দেখলাম। বেশ শান্তশিষ্ট পরিবেশ। ঘুরে বেড়িয়ে আশ্রয়স্থলে ফিরে আসার সময় কালো মেঘেদের দল নিচে নেমে আসতে থাকে। বেশ ভালই লাগছে ঠান্ডা যেন আরো বাড়তে আছে। এদিকে পেট ও শরীর দুটোই বলছে ফিরে চল আশ্রয়স্থলে। যাই হোক মন কে মনেষ্টি তে রেখে ফিরে এলাম।
দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নেবো কি সন্ধ্যা নেমে এলো। সন্ধ্যায় একটু চাঁদ মামার সাথে পাহাড়ী গ্রাম দেখে ফিরে এলাম।
কাল সকালে কাঞ্চন দার সাথে আলাপ পরিচয় হবে...
আজ শুভরাত্রি... ভালো থাকবেন সবাই।





Second Day

আজ কাঞ্চন দার সাথে আলাপ পরিচয় করব বলে সকালে সাড়ে 4 টাই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পরলাম রাচেল ভিউ পয়েন্টের উদ্দেশে... পাহাড়ী জঙ্গলের মধ্যে চারিপাশে সারি সারি পাইন গাছের রাজকীয় অভ্যর্থনা তার সাথে প্রথম সূর্যের আলো যেন রাস্তাকে গলন্ত সোনায় মুড়িয়ে দিয়েছে... সত্যিই রঙের উৎসবে প্রকৃতি যে এমন সুন্দর ভাবে গালে রং মাখবে তা কল্পনাতীত।





যাইহোক অভ্যর্থনা গ্রহণ করে যখন কাঞ্চন দার সামনে এসে দাড়ালাম আমি স্তম্ভিত। দূরে লাভা গ্রামকে পিছনে রেখে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে আর আমাকে বলছে অতদুরে থেকে পরিচয় করব না আরো কাছে আসতে। আমি চুপচাপ দাড়িয়ে আছি স্থির নয়নে আর মনে মনে কথা দিচ্ছি যাবো খুব শীগ্রই যাবো আরো কাছে। সে বোধহয় আমার মনে কথা শুনে নিয়ে মেঘের কোলে মুখ লুকলো। আমি আর একবার দেখবার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। ততক্ষনে কিছু কাঠ জোগাড় করে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে একটু উষ্ণতা গ্রহণ করলাম। ওই নিস্তব্ধ স্থানে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক কাটিয়ে ফিরে এলাম। তার মাঝে বেশ কয়েবার লুকোচুরি খেলা চলল কাঞ্চন দার সাথে। পথে ম্যাগী ও মমো সহযোগে প্রাতরাশ সেরে ফেললাম।





এবার লাভা কে বিদায় জানানোর পালা। ব্যাগ পিঠে নিয়ে wbfdc এর মধ্যে দিয়ে হাঁটা শুরু করলাম রিসপ এর উদ্দেশ্যে। এ এক অন্য অভিজ্ঞতা ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি কুয়াশা ঘেরা অন্ধকার আচ্ছন্ন পথ ধরে চলেছি। পাখির কলরব পরিবেশ আরো বেশি মোহনীয় করে তুলছে। ধীরে ধীরে পাহাড়ের গা বেয়ে চলতে থাকলাম। ধীরে ধীরে হাঁটার কারণে প্রায় দু ঘন্টা পর পৌঁছলাম রিসপে।
রিশপে কোথায় থাকবো এখনও ঠিক নেই। পাহাড়ের ঢালে অসংখ্য ছোটো ছোটো হমস্টে, রিসোর্ট রিশপের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তুলেছে। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে অবস্থিত পাহাড়ী গ্রাম। এর নির্জনতা যেন আরো বেশি আকর্ষণ করছিলো। কয়েকটি হমস্টে তে খোঁজ নিয়ে একটি আশ্রয় নিলাম । কিছুক্ষন ব্যালকনিতে বসে ফুল ভর্তি ন্যাস্পাতি গাছ ও বিভিন্ন ফুল দিয়ে সাজানো গ্রামটা দেখতে থাকলাম।



দুপুরের আহারাদি করে আবার হাঁটা দিলাম রিশপ গ্রাম ঘুরে দেখতে। পথে স্থানীয় লোকজনের সাথে একটু আধটু কথাবার্তা হলো। সন্ধ্যে। নামার একটু আগেই ফিরে এলাম রুমে। ক্লান্ত শরীর বিছানায় ছড়িয়ে দিতে ঘুম চলে এলো। নটা নাগাদ ডাক এল খাবার জন্য। খাবার খেয়ে শুরু হল গানের আসর। বেশ কিছুক্ষন চলল আসর। যদিও আমি গাইতে জানি না তবে আসরে যোগ দিতে ভালই লাগে। সবাই শুয়ে পরলো আর আমি বসে পরলাম ফোন হাতে.... কাল বাড়ি ফেরার পালা... পথে কিছু পেলে সে গল্পও শোনাবো... শুভ রাত্রি



Post a Comment

0 Comments