শিক্ষকতা জীবনে অনেক বিচিত্র ছাত্রের অদ্ভুত অদ্ভুত রকমের উত্তরের সম্মুখীন

14 বছরের শিক্ষকতা জীবনে স্কুলে অনেক বিচিত্র ছাত্রের অদ্ভুত অদ্ভুত রকমের উত্তরের সম্মুখীন হয়েছিলাম। তারই কয়েকটি নমুনা পেশ করলাম। উত্তরগুলো পড়ে আপনারা হাসবেন🤓 না কাঁদবেন 😥সেটা আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম।

1) প্রশ্ন করেছিলাম, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
একজন উত্তর লিখেছে "আলেকজান্ডার"।👹👺
আমি মনে মনে ভাবলাম
সুদূর গ্রিস থেকে আলেকজান্ডার বালি, সিমেন্ট, ইট, পাথর ইত্যাদি ঘোড়া বোঝাই করে ঝিলাম নদীর তীরে স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বানাতে এসেছিল। পুরু মনে হয় ওখানে ভাবা আটমিক রিসার্চ সেন্টার তৈরি করতে চেয়েছিল তাই আলেকজান্ডারের সাথে ওর ঝগড়া লেগেছিল। বাকি ইতিহাসটুকু আমাদের সকলেরই জানা। হেরে গিয়ে পুরু বাধ্য হয়ে আলেকজান্ডারকে স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট বানাবার পারমিশন দেয়।🤓😜

2) মাধ্যমিকের ওরাল নেবার সময় একটি ছেলেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম,
জলের স্ফুটনাঙ্ক কত?
ছেলেটি স্মার্টলি উত্তর দিল,
দ্বিতীয় শ্রেণীর লিভার।🙄
ভুল শুনলাম মনে হয়, আর নাহলে সে প্রশ্নটা হয়ত ঠিকমত শুনতে পায়নি।
প্রশ্ন আবার জোর গলায় রিপিট করলাম
কিন্তু উত্তর ওই একই এল।
মাথাটা না পুরো জলের স্ফুটনাঙ্ক মাত্রায় চলে গেল,😵 মানে দ্বিতীয় শ্রেণীর লিভার হয়ে গেল।
আমি ওকে কাছে ডেকে ফিসফিস করে বললাম,
দ্বিতীয় শ্রেণীর লিভার কী জানিস?
ছেলেটি ভাবলেশহীন ভাবে সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ স্যার,
জলের স্ফুটনাঙ্ক।😠😡😬
আমি ওইদিন প্রথম অনুভব করলাম যে, চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায়ও কারো মাথা ঘুরতে পারে।
আমি ওকে আর কোন প্রশ্ন করিনি। কারণ বাকিদের ওরাল নেবার জন্য সেই মুহূর্তে আমার সুস্থ থাকটা ভীষণ প্রয়োজন ছিল।😩

3) সেভনের ভৌতবিজ্ঞান রিটেনের প্রশ্ন ছিল, জলের কোন ধর্মের জন্য শহরের জলাধার থেকে বাড়ি বাড়ি জল সাপ্লাই করা যায়?
উত্তর টি হবে সমোচ্চশীলতা ধর্ম।
একজন লিখেছে জৈন ধর্ম আর একজনের খতায় লেখা ছিল বৌদ্ধ ধর্ম।😮😕
উত্তর কিছু একটা ধর্ম হবে। হিন্দু ধর্ম যে হবে না সে বিষয়ে ওরা কনফার্ম ছিল। তাই বৌদ্ধ বা জৈন লিখে দিয়েছে।😜😛😝

4) ওই একই ক্লাসের প্রশ্ন ছিল,
মানুষের প্রথম আবিষ্কার কী?
একজন লিখেছে মানুষের প্রথম আবিষ্কার হল
"ভাঙা ছাতা"😫😦
না, ছাতা লিখলে মেনে নেওয়া যেত, কিন্তু ভাঙা ছাতার কেসটা কী?
কোন জিনিস আবিষ্কার করার পর সেটা ভেঙে যেতেই পারে কিন্তু ভাঙা জিনিস কীভাবে আবিষ্কার হবে, তারপরে অন্য কিছু নয়, সেটা আবার ছাতা।
ভাগ্গিস লেখেনি "KC পালের ভাঙা ছাতা"।😛🤑

5)মাধ্যমিক টেস্টে একবার আমার এক কলিগ প্রশ্ন করেছিল, আকবর কখন সিংহাসনে বসেন?
একটি ছেলে লিখেছিল আকবর বিকেল 5 টার সময় সিংহাসনে বসেছিলেন।😭😱
এই উত্তর পড়ে কলিগ বলল, ও মনে হয় আকবরের সিংহাসনের তলায় মোবাইল নিয়ে ঘাপটি মেরে বসেছিল।😂😁
আমি বললাম, ও ঠিকই লিখেছে, আপনার প্রশ্নটা ভুল আছে। আপনাকে প্রশ্ন করতে হত আকবর কত সালে সিংহাসনে বসেছিলেন। কখন প্রশ্ন করলে তো সকাল বিকেল ইত্যাদি বোঝায়। 😜

এরকম আরো অনেক মজাদার ছোট প্রশ্নের উত্তর আছে। তবে এবার একটা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর বলে শেষে করব

1) ডাক্তারী থার্মোমিটারকে কেন গরম জলে ডোবানো হয়না?
একজন লিখেছে~
মানুষের জ্বর হলে ডাক্তারি থার্মোমিটারকে বগলের মধ্যে ঢোকানো হয়। তারপর দশ মিনিট রাখার পর (তাই নাকি? 10 মিনিট!😏) বের করে দেখতে হয়। দেখা হয়ে গেলে ঝেড়ে ঝেড়ে রেখে দিতে হয়। ঝাড়ার সময় দেখতে হবে কোথাও যেন ফটাম করে লেগে না যায়। লেগে গেলেই শেষ। কাচের পারদ খুলে মাটিতে পড়ে যায়। ওইটা খুবই বিষাক্ত জিনিস। যে খাবে তার পাতলা পায়খানা শুরু হয়ে যায়। পায়খানা আর থামবে না। চলতেই থাকবে চলতেই থাকবে(পায়খানা না রোহিত শর্মার ব্যাট😃) তো যেটা বলছিলাম, সাবধানে ঝেড়ে নিয়ে আবার অন্য কারো জ্বর হলে তার বগলে দিতে হবে। পনের মিনিট(10 মিনিট টা 15 মিনিট হয়ে গেল কী করে?😒) রেখে যদি জ্বর না ওঠে তাহলে এক ঘন্টা🙄 রাখতে হবে।রুগী যদি বিছানায় পড়ে কাতরাতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে ভেতর ভেতর জ্বর আছে কিন্তু উঠছে না।🙃 যেকোন সময় হঠাৎ করে উঠে আবার নেমে যেতে পারে। তাই থার্মোমিটার টি রাতের বেলা বগলে ঢুকিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে 😲(রুগীর পায়খানা পেলে কি থার্মোমিটার বগলে নিয়েই পটি করতে যাবে?🤔)
এই যে কাচের ছোট যন্ত্রখানা জ্বর মাপতে গিয়ে লোকের বগলে বগলে ঘুরে বেড়ায় এতে করে যন্ত্রটির আগাতে জীবাণু লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। (থার্মোমিটারের কী দুর্বিষহ জীবন মাইরি! লোকের বগল-ভ্রমন করে বেড়াতে হয়🤓) অনেকের বগলে আবার খুব ঘাম হয়, সেখান থেকে বিটকেল গন্ধ হয়। থার্মোমিটারে সেই গন্ধ লেগে গিয়ে তা অন্য লোকের বগলে ছড়িয়ে যায়। সেজন্য একজনের জ্বর মাপা হয়ে গেলে ওটাকে গরম জলে করে টগবগ করে ফুটাতে হবে।😫 ফুটিয়েই যেতে হবে ফুটিয়েই যেতে হবে যতক্ষন না সব জীবাণুগুলো গরম জলের ছ্যাকা খেয়ে মরে না যায়।
এই জন্যই ডাক্তারি থার্মোমিটারকে গরম জলে অনেক্ষন ধরে ডুবিয়ে রাখা হয়।😤😟😖
 যারা যারা উত্তরের শেষে এসে ভুলেই গেছেন প্রশ্নটা কী করা হয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি যে, প্রশ্ন ছিল কেন ডোবানো হয় না। উনি উত্তর দিয়েছেন কেন ডোবানো হয়।😌
 খাতাটা দেখতে গিয়ে ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল। ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় একটা প্রশ্ন এসেছিল, ভারতের রাধারানী কোথায়? আমি ভুল প্রশ্ন ভেবে ছেড়ে দিয়ে এসেছিলাম। হ্যাঁ, প্রশ্নটি ভুলই ছিল। ওটা হত ভারতের রাজধানী কোথায়? বাড়িতে এসে তবুও রামধোলাই খেয়েছিলাম।😩😥 বাড়ির লোকের বক্তব্য ছিল কোন প্রশ্ন ভুল এলে সেটা ঠিক করে নিয়ে উত্তর লিখতে হয়। পিন্টু দেখবি ঠিক করে আসবে। হ্যাঁ, পিন্টু ছেড়ে আসেনি ও লিখেছিল ভারতের রাধারানী আমেরিকায় অবস্থিত😂। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্টের বৈশিষ্ট্য হল, প্রশ্ন ভুল এলেও সংশোধন করে নিয়ে সঠিক উত্তর দিয়ে আসা🤔। এত বছর পর এসে আজ এক সাক্ষাৎ ব্রিলিয়ান্ট ছেলের খাতা দেখলাম।🤣😛🤓



    
    আজ এই পর্যন্তই🙏🙏🙏। বেঁচে থাকলে অন্য একদিন আর্কিমিডিসের সূত্র শোনাব।😉😊

Collected..

Post a Comment

0 Comments