নবদুর্গার অন্যতম শক্তি (কালরাত্রি)

*নবদুর্গার অন্যতম এবং দেবী দুর্গার সপ্তম শক্তি হলেন কালরাত্রি* । ইনি শিব শক্তি।
কালরাত্রি ভীষণদর্শনা দেবী। তাঁর গায়ের রং ঘন অন্ধকারের মতো কালো। তিনি এলোকেশী। তাঁর গলায় বজ্রের মালা থাকে। তিনি ত্রিনয়না। তাঁর দুই চোখ ব্রহ্মাণ্ডের মতো গোলাকার। তাঁর নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সঙ্গে ভয়ংকর অগ্নিশিখা নির্গত হয়। কালরাত্রির বাহন হল গর্দভ বা গাধা। কিন্তু কেন তাঁকে এত ভয়ঙ্কর রূপে দেখান হয়েছে ??? 


আধ্যাত্মিকতা অনুসারে আত্মার দুই রূপ এক কালরাত্রি দুই শুভঙ্করী। অর্থাৎ দেবী দেবতা ও মানুষ এই রহস্যেরই দুই রূপ। যা কল্পের চার যুগের শেষে এসে মহা পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগে পরমাত্মা এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করেন। এক রূপ সৃষ্টি চক্রের আদি রূপ, যা সঙ্গম যুগ থেকে প্রাপ্ত শুভঙ্করী অর্থাৎ নির্বিকারী রূপের। আর সৃষ্টি চক্রের কলির রূপ কাল রাত্রির অর্থাৎ রিপু বা বিকারী রূপের।তিনি চতুর্ভূজা। কেন তাঁর চারহাত ??? কিসেরপ্রতীক তাঁর চার হাত ?? প্রবৃত্তি মার্গ, যা সংসার জীবনে পরমাত্মা ও তার জ্ঞানকে প্রাপ্ত করে কিভাবে আত্ম শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠেন এবং তার হাতের অস্ত্র - তা হল জ্ঞানের, কোনো হিংসক অস্ত্র নয়। যিনি মানুষ থেকে দেবী হয়ে অহিংস ধারণায় উন্নত নতুন জীবনে উন্নীত হন এবং অপর মনুষ্য আত্মা কেও সেই পথ দেখান। অর্থাৎ রিপুতে জর্জরিত মানবকে দেবতুল্য করে তোলেন। তাই দুই হাতে বর ও অভয়মুদ্রা এবং আরো দুই হাতে খড়্গ ও লোহার কাঁটা দেখানো হয়েছে। তাই একদিকে মানব মূর্তি কালরাত্রির ভয়ঙ্কর রূপে পুঁজিত, কিন্তু তিনি পরবর্তীতে জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ে শুভফলের দেবী হয়ে ওঠেন, তাই তাঁর অপর নাম শুভঙ্করী।

Post a Comment

0 Comments