দাড়িংবারি গোপালপুর Trip


#দাড়িংবারি

#গোপালপুর

#বিড়ম্বনা


  ট্রেনে তো উঠলাম।ট্রেন ছাড়ল 8.45 এ। দুগগা দুগগা করে রওনা দিলাম দাড়িংবারির উদ্দেশ্যে। নিজেদের জায়গা খুঁজে নিয়ে বসলাম। যেহেতু স্টাফ রুম এ বসে হঠাৎ করেই ঘুরতে যাওয়াটা ঠিক হয়েছিল তাই তৎকাল টিকিট কাটা হয়েছিল, পরপর সিটগুলো পড়েনি। আর একদম বাথরুমের সামনেই সিট গুলো ছিল আমাদের S8 মেম্বার দের। ঠিক হল মেয়ে রা সবাই মোটামুটি একজায়গায় থাকা হবে, একটা সিট ছিল অনেকটা দূরে, ঐখানে এক কলিগ এর হাসব্যান্ড যাবে ঠিক হল। বাকি যারা আমাদের ওখানে ছিল তারা উঠেই খেতে শুরু করল আর একটু পরেই মিডল বার্থ উঠিয়ে শুয়ে পড়ল। এবার আমাদের খাবার পালা। যেহেতু সবাই ভাগাভাগি করে খাবার এনেছিল তাই ঠিক হল আমরা S7 এ গিয়ে খাব। আমি যদিও কিছু নিয়ে যেতে পারিনি। আর আমাদের আর এক কলিগ আসতে পারে নি তার ছেলে র হঠাৎ জ্বর আসায়। যাইহোক আমরা তো গেলাম মেয়ে রা মিলে, কিন্তু গিয়ে দেখি ওখানকার অবস্থা আরও খারাপ, দুদিকের মিডল বার্থ তোলা। আমরা কোনরকম মাথা নিচু করে খেতে শুরু করলাম, ও বাবা একজন এসে বলল সে এখনই শুতে চায় তাকে যেন তার লোয়ার ছেড়ে দেওয়া হয় এখনই, আমরা দুমিনিট সময় চাইলাম কিন্তু তিনি একপাক ঘুরে এসেই আমাদেরকে উঠিয়ে দিলেন জোর করে। আমরা কোনমতে গিলে বেরিয়ে এলাম ওখান থেকে, কারোর ই ভালো করে খাওয়া হয়নি, কি আর করা। ছেলে রা খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই খেয়েছিল। পরে শুনেছিলাম ওরা আমাদের একজনের সাথেই এক্সচেঞ্জ করে ওখানে এসেছিল। আর আমাদের সাথেই খারাপ ব্যবহার করল। যাইহোক এবার ঘুমাবার পালা কারন আমাদের জায়গার লাইট অফ হয়ে গেছিল। শুধু সাইড লোয়ার টা যেহেতু টিটি সাহেবের ছিল তাই ওখানে আলো জ্বলছিল। আমাদের সিট ছিল দুটো আপার, একটা মিডল, একটা সাইড আপার। এক কলিগের ছোট বাচ্চা কিছুতেই না ঘুমানোর কারনে ও S7এর লোয়ার এ চলে গেল। একে তো পেটে খিদে, তার উপর প্রচন্ড গন্ধ আর গরম, সবমিলিয়ে ঘুম আর আসেনা। কিন্তু তাও আমি ট্রেনের দুলুনিতে আর সারাদিনের ক্লান্তি তে একসময় ঠিক ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ রাত দুটো-আড়াইটা হবে আমাদের S7 এর এক মেম্বারের চ্যাঁচানিতে ঘুম ভাঙল। প্রথমটা তো কিছু বুঝতেই পারলাম না ঘুমের ঘোরে, এরপর বুঝলাম আর শুনলাম যে আমাদের এক দাদাকে একজন তার বার্থ থেকে জোর করে তুলে দিয়েছে এবং দাবি করেছে আমাদের মহান টিটি সাহেব তাকে দাদার সিট টা বিক্রি করে দিয়েছেন। টি টি সাহেব তো কিছুতেই যাবেন না, তাকে জোর করে ওরা নিয়ে গেল, কিন্তু উনি সমাধান কিছুই করতে পারলেন না, টিকিট দেখানো সত্ত্বেও। ঐ দাদা বাকি রাতটা বসেই কাটাতে বাধ্য হল। আর এক দিদি উঠে যেই বাথরুম গেছে আর ওমনি তার জায়গায় একজন শুয়ে পড়েছে, সেও নাকি অনেক চ্যাঁচামেচি করে লোকটাকে নামিয়েছে। এইভাবেই কেটে গেল কোনরকমে রাতটা, ঘুম তো কারোরই ভালো হয়নি। ভোর হল আমরা ও নামবার কথা ভেবে খুশি হলাম কিন্তু ট্রেন এক ঘন্টার ওপর লেট। বাথরুম যাওয়ার কোন উপায় নেই, এক তো প্রচুর লোক বসে আর বাথরুম টা শুরুর থেকেই ছিল প্রচন্ড নোংরা। তার ওপর আমি ব্রাশ পেস্ট কিছুই আনিনি। ট্রেন থেকেই একটা ব্রাশ কিনলাম। এবার অপেক্ষা কখন ট্রেন থেকে নামবো কারন গন্ধে গরমে আর টেকা যাচ্ছিল না, শেষপর্যন্ত আমরা ব্রহ্মপুর স্টেশন এ নামলাম 7.20 নাগাদ ক্লান্ত বিধ্বস্ত হয়ে।

             ব্রহ্মপুর স্টেশন এ নেমেই আমার এক কলিগ দৌড়াল প্রাতঃকৃত্য সারতে আর চাপতে না পেরে, আসলে আমরাই ওকে নিরস্ত্ করেছিলাম ট্রেনের বাথরুমে যেতে, যা দেখেছিলাম অবস্থা তাতে আর যাবার মত ছিল না। আমাদের আগের থেকেই বুক করা ট্রাভেলার গাড়ি দাঁড়িয়েই ছিল আমাদের অপেক্ষায়। এবার সকলেই এক এক করে গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম দাড়িংবারির উদ্দেশ্যে। গাড়ি পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথে উঠতে লাগলো উপরের দিকে। একদিকে পাহাড় আর একদিকে অনেকনিচে আমাদের ছেড়ে আসা পথ... আবার কখনো দুদিকে সবুজ গাছপালা... আমরা পথশোভা দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম.... সত্যি ভালো লাগছিল...একটা পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়। কখনো ঘন বন। এটা পূর্ব ঘাট পর্বত মালা... আমার এক কলিগ জানাল। প্রায় 8 টার দিকে আমাদের গাড়ি ছেড়েছিল... একটা কথা বলা হয়নি সমতলে একজায়গায় গাড়ি থামিয়ে অনেকেই সকালের কাজ সেরেছিল...কারন ব্রহ্মপুর থেকে দাড়িংবারি অনেকটা রাস্তা... বাচ্চারা কেউ কেউ বমি করতে শুরু করল... একটা ছোট বাচ্চা খুবই বমি শুরু করল.. আমরা সকলেই একটু ভয় পেয়ে গেলাম.... আস্তে আস্তে প্রায় সকলেই ঘুমিয়ে পড়ল দুএকজন ছাড়া... প্রায় 12.30 টার কাছে আমরা গন্তব্যে পৌঁছালাম.... বাস থেকে নেমে চারপাশটা দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল... সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে গেল... চারপাশটা পাহাড় দিয়ে ঘেরা..... আমাদের হোটেলটা দেখে ও খুব ভালো লাগলো... এবার ফ্রেশ হয়ে খেয়েদেয়ে লম্বা ঘুম দিল সবাই... একেবারে বিকালে ওঠা হল... এবার বেরোবার পালা.... 


চলবে...








Post a Comment

0 Comments