A story of a Traveller

বে বলে। সব ফেলে আমার মুখের দিকে চেয়ে রইলো।
কেন তুমি ফিরে কি করবে শুনি।
না মানে ওই ওতো উঁচুতে খাবার দাবার .....
থাক খাবারের কথা তোমাকে ভাবতে হবেনা। তুমি ফটো তলায় মন দিও।
যাক শান্তি।
পরদিন বেরোতে যথারীতি সাত টা বেজে গেল। হু হু বাবা বাঙালি বলে কতা।
পারমিট পর্ব চুকিয়ে কিছুটা যেতেই শুরু হলো জঙ্গুলে পথ। রাত্রের হালকা বৃষ্টির জল তখন গাছের পাতা কে আদ্র করে রেখেছে। নাম না জানা ফুল থেকে টুপি টপ জল পড়ছে। মৌমাছি উড়ছে।
অনেকটা হাঁটার পর এলাম লক্ষণ গঙ্গার উপর লোহার ব্রিজ এ। তার রূপ দেখে হৃৎকম্প হওয়ার জোগাড়। বড়ো বড়ো বোল্ডার সহ তীব্র গর্জনে বয়ে চলেছে। মৃত কাঠের গুড়ি গুলোকে অবলীলায় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে। কিছুদূর গিয়ে অলকানন্দর সাথে মিশবে। দুর্দম আওয়াজে কানে তালা ধরে যায়। নীচে তাকালে মাথা ঝিম ঝিম করে। সাবধানে পিচ্চল রাস্তা পার করে উঠে এলাম অনেক উঁচুতে । প্রায় 3200 মিটার। আর একটি ছোট্ট নদী পেরোতে হবে। ভারী সুন্দর নাম তার। পুষ্পবতী। ফুলের বনে ফুলেশ্বরী যেন। কিন্তু মেজাজ তার ও নরম নয়। তার উপর এতে লোহার সাঁকো নেই। বেশ কিছু ভুরজ গাছের ডাল এর উপর দুটো টিন এর পাত ফেলে রাখা আছে। অতি সন্তর্পনে পার হলাম সেই জায়গা। একটু অসাবধান হলেই সোজা নিয়ে যাবে অতল খাদের দিকে।
কিন্তু কষ্ট না করলে কি কেষ্ট মেলে ? । নদী পার হয়ে সামান্য উঠে এলেই সামনে দিগন্ত প্রসারিত সেই নন্দন কানন।
ফুলো কি ঘাঁটি।
এতক্ষন হাঁটা হাঁটি করে বড়ই খিদে পেয়ে গিয়েছিল। একটি সমতল জায়গা দেখে ফুলের বনে বসে সারা হলো ভোজন। রুটি, তরকারি আর ডিম সেদ্ধ। শেষে একটি করে প্যাক লস্যি বা ফলের রস যার যা পছন্দ।
অনেক অনেক ফটো তুললাম। সে এক অসাধারণ সুন্দর জায়গা। দেবতারা বোধ হয় এখানেই প্রাতঃ ভ্রমণে বেরোন।
বেশ কিছুক্ষণ পর মেঘের দল যেন নন্দনকানন এর দ্বার রক্ষীর মতো এলো। বিনা বাক্য ব্যায়ে আমরা ফিরতি পথ ধরলাম। সেও প্রায় 6 কিমি। পাথুরে রাস্তায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। বেশ কিছুটা নামার পর আবার একম্প্রস্থ ভোজন পর্ব সমাধা হলো। সেই একই মেনু অবশ্য।
তাতে কি । জঙ্গলের মধ্যে সবাই মিলে বসে পাখির ডাক শুনতে শুনতে, বনজ গন্ধ শুঁকে এই খাবার খাওয়ার তৃপ্তি অতুলনীয়।



Post a Comment

0 Comments