ঘাটশিলা, চাঁইবাসা, হেসাডি, হিরণি ফলস্

##..ঘাটশিলা, চাঁইবাসা, হেসাডি, হিরণি ফলস্ ..## 
কোথায় যাই কথায় যাই তিনদিন ছুটি.......শেষকালে ঠিক হল ঘাটশিলা, চাঁইবাসা, হেসাডি, হিরণি ফলস্......কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে চললাম বোম্বে রোড ধরে ঘাটশিলা, ওখানে বেলা ১ টা নাগাদ আমরা ঢুকলাম বিভূতি ভুষণ লজে, হাই রোডের পাশেই বেশ বড় সুন্দর খোলা মেলা লজটি, রান্নাও বেশ সুন্দর.....বিকেলে আমরা গেলাম সুন্দর আদিবসী গ্রামের মধ্য দিয়ে বুরুডি লেকের ধারে....লেকটি বেশ বড়....চারিদিকে শাল ও শেগুন বন..... লেকে যাবার সময় ছোট ছোট গ্রামের আদিবসী বাড়িগুলো ছবির মতো করে আঁকা....পরিবেশও সুন্দর...এরপর আমরা গেলাম বিভূতি ভুষণের বাড়ি ......


কলকাতার কোন কোলাহল নেই....নিরব নিঝুম হোটেলে রাত কাটিয়ে পরের দিন আমরা ছুটলাম চাইঁবাসার দিকে....
চাইঁবাসা থেকে ডানদিকে সোজা হেসাডি......চাঁইবাসা ছাড়তেই দুইধারের সবুজময় পাহাড় একের পর এক অতিক্রম করে এগিয়ে চললাম....চক্রধরপুর পেরিয়ে ১০ কিমি যেতেই আমাদের গাড়ি আঁকা বাঁকা পথে উপরের দিকে উঠতে লাগল... শুরু হল ঘন জঙ্গল ......মাঝে এক পশলা বৃষ্টি আমাদের শান্তনা দিয়ে গেল....আমরা যে পথে যাচ্ছি সেটি চাঁইবাসা-রাঁচি রোড.... চাঁইবাসা থেকে হেসাডি ৬৫ কিমি,  আর  রাঁচি ১৩৫ কিমি......আমরা রাঁচি যাব না  হেসাডির হিরণি ফলস দেখে ওখানেই থেকে যাব , তবে কোন হোটেল বুকিং নেই.... আমরা খেয়াল খুশি মত এগিয়ে চলেছি.....
১৯৯৭ সালে হেসাডিতে এক PWD...বাংলোতে আমরা ছিলাম... সেবার হেসাডির আকাশে দেখা গিয়েছিল হ্যালির ধূমকেতু ..... PWD...বাংলোর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নাম না জানা পাহাড়ী নদি .... হাঁটু জল বয়ে যাচ্ছিল....ভারি সুনদর প্রাকৃতিক পরিবেশ ...শনিবার এখানে আদিবাসী হাট বসে...


 ঘন পাহাড়ী জঙ্গলের আঁকা বাঁকা পথে প্রায় ২৫ কিমি পথ পেরিয়ে হিরণি ফলসের বিশাল তোরণের সামনে আমাদের গাড়ি দাড়াল...ডানদিকে দেড় কিমি গেলেই হিরণি ফলস্....সজা পথ চলে গেছে  রাঁচি....মোরের দোকানে থাকার কী জায়গা আছে খোঁজ করতেই জানা গেল আপাতত থাকার কোন জায়গা নেই, হয় আমদের আরও ৭০ কিমি এগিয়ে রাঁচি যেতে হবে অথবা পিছনে ফেলে আসা চক্রধরপুরে ব্যাক করতে হবে.. সেই PWD বাংলোতে এখন পুলিশের ক্যাম্প হয়েছে...চা-জল খেয়ে আমরা হাজির হলাম হিরণি ফলসের সামনে....কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হওয়াতে ফলসের জলের গতি অনেক বেড়ে গেছে...... ঘুরতে ফিরতে ছবি তুলতে কোথা দিয়ে যে দুঘন্টা সময় চলে গেছে বোঝা গেল না.
সঙ্গের খাবার দাবার শেষ... আমরা ফিরে চললাম ৪০ কিমি পিছনের দিকে সেই পিছনে ফেলে আসা পাহাড়ী জঙ্গলের আঁকা বাঁকা পথে চক্রধরপুর......
চক্রধরপুরে সুন্দর একটি নতুন হোটেলে আমাদের ঠাঁই হোল আজকের মতো.....ভাড়াও বেশ কম....ছোট্ট জনপদ, কোন এক সময় রেলের বড় বড় রেক আনা গোনা করত...পশ্চিম ভারতের সব ট্রেন এই চক্রধরপুর হয়েই যায়...


পরের দিন আমাদের ডেসটিনেশন ওড়িশার বাংরিপোশি...... এখান থেকে ১৩৫ কিমি পথ....চাঁইবাসা হয়েই যেতে হবে....ঝাড়খন্ড ছেড়ে ওড়িশায়......অজানা-অচেনা পথ......এইওড়িশায়......অজানা-অচেনা পথে যাবার থ্রিলিং একটু অন্যরকমের....কোথাও পাহাড় কোথাও নদী কোথাও অজানা গ্রাম..... একের পর এক পার করে আমরা এগিয়ে চলেছি বাংরিপোশির দিকে.....
 সকাল আটটায় গাড়ি ছেড়ে ৯টায় আমরা চাঁইবাসায় ইডলি-ধোসা দিয়ে আমাদের টিফিন সাঙ্গ করলাম......আবার শুরু এগিয়ে চলা..... সুন্দর সবুজে ভরা, মাঝে মাঝে পাহাড়ের হাতছানি....গুডবাই করতে করতে বেলা ১ টায় আমরা চাঁইবাসা পৌঁছেলাম কিন্তু কোন হোঠেলেই জায়গা পেলাম না.....আজ শনিবার কলকাতার টুরিস্ট বোঝাই সব হোটেল......চািঁবাসায় আমাদের থাকা হোল না....পথের ধারে এক ধাবায় খেয়ে আমরা এগিয়ে চললাম কলকাতার দিকে.... এক ঘন্টার মধ্যে আমরা হাজির হলাম অজানা এক জায়গায়,  নাম : গোপীবল্লবপুর..... সুন্দর সুবর্ণরেখা নদী ৩ দিক ঘিরে রেখেছে 


গোপীবল্লবপুরকে.....চারিদিক সাদা কাশ ফুলের বন নতুন মাত্রা যোগ করেছে....আমরা আশ্রয় নিলাম একটি লজে...সন্ধ্যেবেলাটা সুবর্ণরেখার নদীর ধারেই কেটে গেল..

Post a Comment

0 Comments