করোনা তুমি করুণা করো

করোনা তুমি করুণা করো
***********************

আরে আরে চললে কোথায় বাজারের ব্যাগ নিয়ে? 
-না সকালে বলছিলে না কুচুর মাছ শেষ হয়ে এসেছে। তাই.. 
-তাই কি? 
-তাই একটু বাজারে ঘুরে আসি। দেখো আমরা যা খুশি খেতে পারি। ঐ অবোলা জীব ও তো মাছ ছাড়া কিছুই খেতে পারে না। 
-আহা রে কত দরদ অবোলা জীবের প্রতি। দেখো তোমাকে বলে দিচ্ছি বাজারে যাও আর যেখানেই যাও রান্না আমি আর করতে পারবো না। 
-না তুমি বলছিলে মুখটা কেমন হয়ে আছে তাই একটু লাউশাক... 
-সাথে ঝিঙে, ডাঁটা, মোচা, থোর। আর টাটকা মাছ। তাই বা বাদ যাবে কেন? তাই তো?? 
শোনোওও ঐ সব ঘাস পাতা খেয়ে খেয়ে পেটে চড়া পড়ে গেছে। এখন স্রেফ খিচুড়ি। 
-সে কি!! মেয়েটার শরীরটা যুত নেই একটু মাছের ঝোল, একটু চিকেন স্টু করে দিলে তাড়াতাড়ি চাঙ্গা হয়ে যাবে। সারা মাস তো ঐ দাদুর রান্না খায়। এখন দুদিন এসেছে একটু ভালো মন্দ রান্না করে খাইয়ে শখ মিটিয়ে নাও। 
-তোমার শখ মেটানোর ঠেলায় আমি তো সারাদিন রান্নাঘরে চোখে অন্ধকার দেখছি । বলি দেখেছ এই কয়দিনে আমার কি হাল হয়েছে?? 
কাজের বৌকে ছুটি দিয়েছি করোনার জন্য। তোমার অফিস, মেয়ের কলেজ সব ছুটি করোনার জন্য। আচ্ছা মোদীজী একথাও বলতে পারতো যে ঘরের বৌয়ের ও ছুটি কাজ থেকে। কি বেয়াক্কেলে পুরুষ মানুষ। একটু ঘরের গৃহিনীদের কথা ভাবলো না গা। 
আর আমাদের দিদিকেও বলিহারি। মেয়ে হয়ে একটু মেয়েদের দুঃখ দেখলো না। দিয়ে দিল সব ছুটি। এখন একুশ দিন ঘরে বসে থাকো। শুধু মুদি দোকান আর সবজী বাজার খোলা। 
-দেখো ঐ দুটো খোলা না থাকলে সব লোকে না খেতে পেয়ে মারা যেত। তাই.... 
-এর নাম না খেতে পেয়ে মারা যাওয়া। রোজ কাঁড়ি কাঁড়ি রান্না, তার সাথে বাসন মাজা, সাথে সাবান কাচা, তার উপর ঘর দোর ঝাড়া পোছা। আবার তোমাদের প্রতি এক ঘন্টায় চা, গরম জল। এত সব করে কে বলতে পারো?? 
আমার নরম নরম হাতে কাজ করে করে কড়া পড়ে গেল। হে করোনা তুমি কেন এলে!! তোমার আসায় পুরুষগুলো তো চুটিয়ে ছুটি উপভোগ করছে। আর আমরা বৌগুলো কাদায় ঠাসা হচ্ছি। 
-আহা অমন করে বলো না সোনা। রোজ রাতে না ঘুমিয়ে যে তোমার সারা গা হাত পা টিপে দিচ্ছি তারবেলা!! তখন তো দিব্যি আরামে নাক ডাকিয়ে ডাকিয়ে ঘুমাও। একবারো ভাবো এই বরটা ঘুমালো কি ঘুমালো না। 
-ও মা গো। আদর করে ঘুম পাড়াচ্ছ তার আবার ভাবতে যাবো কেন তুমি ঘুমলে কিনা। 
-যাক গে দেখো অনেক বেলা হলো। যাই এবার বাজার টা ঘুরে আসি। 
-শুনে রাখো যাই আনো স্রেফ খিচুড়ি। 
-ওগো শুনছ!! কোথায় গেলে?? বাজারের ব্যাগটা ধরো একটু। 
-সেই..... 
-না গো লকলকে লাউডগা দেখলাম তাই নিলাম। একটু পোস্তবাটা দিয়ে চচ্চড়ি, আর জ্যান্ত তেলাপিয়া, আর বাটা মাছ পেলাম। তাই নিলাম। মেয়েটাতো ওখানে জ্যান্ত মাছ খেতে পায় না। তাই। আর তুমি বলো ফ্রিজে সব সময় কিছু মাছ রাখা ভালো। তাই একটু..... 
-হয়েছে বলা শেষ!! এবার বলো কি রান্না হবে?? 
-আমার তো লাউশাক হলেই হবে ।সাথে করলা ভাতে। আর তুমি যা করবে। 
-হে ভগবান কবে উঠবে এই লকডাউন। হে করোনা তুমি এবার করুণা করো। আর সহ্য হয় না এই বাড়িতে থাকা। 
-ওমন বলো না গো। এই করোনা এসেছে বলেই না আমরা সবাই মিলে একসাথে আছি। 
-এর নাম থাকা!!!এর নাম মরে বেঁচে থাকা। 




***********30/3/2020**************

By ছন্দশ্রী দাস..
************

Post a Comment

0 Comments